সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ০৫:৩৯ এএম
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি/২০২৫, বুধবার, প্রিয় প্রতিষ্ঠান সন্দ্বীপ কারামতিয়া সিনিয়র মাদ্রাসার বার্ষিক সভা/ওয়াজ মাহফিল" অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। "প্রাক্তনদের যোগাযোগ" নামক একটি সামাজিক যোগাযোগ সাইটের মাধ্যমে উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে সিনিয়রদের সহযোগিতা চেয়েছেন। ভাইদের অনুরোধ এবং সামাজিক, নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব থেকে আজকে লিখার অবতারণা।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষা সমাপনীর পর ১৯৭৫ সালে সন্দ্বীপ কারামতিয়া সিনিয়র মাদ্রাসায় "দাহুম" (দাখিল পঞ্চম বর্ষ) শ্রেণীতে ভর্তি হয়। তখন থেকে ১৯৮৩ সাল পর্যন্ত প্রায় প্রত্যেকটি "বার্ষিক সভা/ওয়াজ মাহফিল" আয়োজনের সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলাম। এখন "ওয়াজ মাহফিল" বলা হলেও
তখন বলা হতো "বার্ষিক সভা"। সে সময় সন্দ্বীপে ০৩ টি সরকারি অনুদান প্রাপ্ত মাদ্রাসা ছাড়াও কয়েকটি কাওমি মাদ্রাসা ছিল। সব মাদ্রাসায় পর্যায়ক্রমে বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল হতো। এছাড়াও, ফোরকানিয়া মাদ্রাসা ও এলাকার বিভিন্ন মসজিদে বার্ষিক এ অনুষ্ঠানটি হতো।
সাধারণত শীত মৌসুমে এ সকল ওয়াজ মাহফিল আয়োজন করা হতো। এর কারণ -
প্রথমত: শুষ্ক মৌসুম।
সন্দ্বীপের মতো নিবিড় গ্রামীণ পরিবেশে যোগাযোগ ও জন সমাবেশ আয়োজনের জন্য এ সময়টি ছিল খুবই উপযুক্ত।
দ্বিতীয়ত: আর্থিক সহযোগিতা।
সে সময়কার গ্রামীণ পরিবেশে মানুষের কাছে নগদ টাকার সংকট ছিল। এ সময়ে "রাজাশাইল" ও "আমন ধান" কাটার মৌসুম চলমান থাকায় ধানের মাধ্যমে সাহায্য দিয়ে মানুষ এ সকল ওয়াজ মাহফিলে সহযোগিতা করতেন।
- কারামতিয়া মাদ্রাসার "বার্ষিক সভা/ওয়াজ মাহফিল" ছিল সন্দ্বীপের সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ ও বিশাল ধর্মীয় অনুষ্ঠান :
সে সময়কার সন্দ্বীপের অন্যান্য মাদ্রাসা এবং বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলের তুলনায় কারামতিয়া মাদ্রাসার "বার্ষিক সভা/ওয়াজ মাহফিল" আয়োজন হতো সবচেয়ে জাঁকজমকপূর্ণ ও বিশাল আকারের। সেক্রেটারি মরহুম "অহিদুল হক তালুকদার", ক্যাশিয়ার মরহুম হাজী লুৎফুর রহমান (লুতু হাজী) এবং পরিচালনা কমিটির অন্যান্য সদস্যরা এতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতেন। শিক্ষকদের মধ্যে প্রথমদিকে মরহুম "মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস" এবং পরবর্তীতে মাওলানা "আবুল কালাম" এর নেতৃত্বে ছাত্রদের নিয়ে একটি কমিটি করা হতো। উক্ত কমিটির সদস্যরা অনুষ্ঠানটি সুসম্পন্ন জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতেন।
- প্রচার-প্রচারণা :
অন্যান্য প্রতিষ্ঠানগুলি তাদের ওয়াজ মাহফিলের কথা হাতে লিখা পোস্টার এবং এলাকাভিত্তিক মাইকিং করে প্রচার করতেন। কিন্তু, সবসময় আমাদের কারামতিয়া মাদ্রাসার পোষ্টার এবং লিফলেট ছিল ছাপানো এবং মাইকিং চলতো সন্দ্বীপের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে উত্তর প্রান্ত পর্যন্ত। প্যাডেল চালিত রিকশায় মাইক বেঁধে প্রচারণায় ছাত্রদের পক্ষ থেকে অংশ নিতেন নূরসাফা (সাবেক শিক্ষক/বদিউজ্জামান হাইস্কুল), মরহুম হাফেজ আতিকুল্লাহ, মাইনুদ্দিন (শিবেরহাট বায়েজিদ লাইব্রেরীর ছোট ভাই), হাফেজ নুরুল হুদা, সানাউল্লাহ, মরহুম রহিমুল্লাহ ভাই এবং অন্যান্যরা।
- আভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও খাওয়া-দাওয়া আয়োজন :
সার্বক্ষণিকভাবে মাদ্রাসার হোস্টেলে অবস্থানের সুবাদে আভ্যন্তরীণ সকল প্রকার সমন্বয়ের দায়িত্ব আমাকে দেয়া হতো। খাওয়া-দাওয়ার আয়োজনের দায়িত্বে থাকতেন মরহুম মুস্তাফিজ ভাই (প্রাথমিক শিক্ষক)। এছাড়াও, মগধরার সাহাবুল্লাহ, সারিকাইতের কাজী মোস্তফা, ফুরকান, মুছাপুরের মরহুম মাহফুজ শিবলী, জামশেদ, মরহুম জসিম উদ্দিন হায়দার(প্রাথমিক শিক্ষক), মোস্তফা, মাইটভাঙ্গার জয়নাল আবদীন (আমেরিকা প্রবাসী), ওমর ফারুক (এবতেদায়ী শিক্ষক), নেমস্তির নিজামুদ্দিন, মরহুম রিদওয়ান ভাই এবং অন্যান্যরা সার্বিক কার্যক্রমে জড়িত থেকে সহযোগিতা করতেন।
- মঞ্চের দায়িত্ব :
মঞ্চ তৈরি এবং ওয়াজ মাহফিল পরিচালনার সার্বিক দায়িত্বে থাকতেন মরহুম আবুল বাশার খান (সাবেক শিক্ষক/মাইটভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়)।
প্রায় ০১ মাস ধরে এ অনুষ্ঠান আয়োজনের ব্যাপক প্রস্তুতি চলতো। নির্দিষ্ট সময়ের পূর্বে সকল আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে হতো। পুরো মাঠ নানা রঙের পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙ্গিন কাগজ দিয়ে সাজানো হতো। উপরে টানানো হতো বিশাল প্যান্ডেল/সামিয়ানা। এলাকার মানুষেরা তাদের সকল প্রকার সামগ্রী/ আর্থিক সহযোগিতা দিয়ে সাহায্য করতেন অনুষ্ঠানটি সফল করতে।
সন্দ্বীপের প্রায় পুরো এলাকা থেকে অসংখ্য মানুষ আসতো এ ওয়াজ/বার্ষিক মাহফিলে। আশে-পাশের বাড়িগুলি ভরে যেত দূর-দূরান্ত থেকে ওয়াজ শুনতে আসা মেহমানে। ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নিয়ে আশে-পাশের জমিগুলিতে বাজার বসতো। এটা শুধুমাত্র একটা ওয়াজ মাহফিল ছিল না, ছিল এলাকার মানুষের আনন্দ- উৎসব ও মিলনের উপলক্ষ/কেন্দ্রবিন্দুও।
জানিনা, এখন কেমন আয়োজন হয় ? প্রায় ০৪ দশক ধরে সন্দ্বীপের বাইরে অবস্থানের সুবাদে দীর্ঘদিন এসব মাহফিলে যাওয়া হয়নি। তবে, নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখি এবং ওয়াজের দিন লাইভ শুনি।
সে সময়কার শিক্ষকদের মধ্যে শ্রদ্ধেয় মাওলানা আবুল কালাম (গুরুতর অসুস্থ) ব্যতীত আর কেউ জীবিত নেই। সিনিয়র- জুনিয়র ছাত্র ভাইদের মধ্যেও অনেকে মৃত্যুবরণ করেছেন। এ সকল ভাইদের জন্য দোয়া রইলো এবং বর্তমান আয়োজকদের জন্য রইলো দোয়া ও শুভকামনা !
সীতাকুণ্ড হোটেল মালিক সমিতির সভাপতির ও সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপ-প্à¦... বিস্তারিত
লায়ন্স ক্লাব অব চট্টগ্রাম লিবার্টির উদ্যোগে সীতাকুণ্ডে চক্ষু ও স্বাস্থ্যসেবামূলক কর্মসূচি অনুষ... বিস্তারিত
আসন্ন দূর্গাপুজা সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক... বিস্তারিত
সীতাকুণ্ড দক্ষিণ বাজার জালাল ভূঁইয়া মার্কেটের ব্যবসায়ীরা গতকাল ৯ অক্টোবর বেলা ১২ টা সময় জালাল... বিস্তারিত
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে সাউথ সন্দ্বীপ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে রাসূল (সা.) এর সীরাত (জীবনী) শীর্ষক সাধà¦... বিস্তারিত
সীতাকুণ্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার উদ্যোগে জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এà¦... বিস্তারিত
-মোঃ তাজুল ইসলাম কামরুল " আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা, তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়... বিস্তারিত
সীতাকুণ্ড হোটেল মালিক সমিতির সভাপতির ও সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপ-প্à¦... বিস্তারিত
লায়ন্স ক্লাব অব চট্টগ্রাম লিবার্টির উদ্যোগে সীতাকুণ্ডে চক্ষু ও স্বাস্থ্যসেবামূলক কর্মসূচি অনুষ... বিস্তারিত
আসন্ন দূর্গাপুজা সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক... বিস্তারিত