সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ০৫:৪২ এএম
ইতিহাস ঐতিহ্যের খ্যাত দ্বীপ উপজেলা যার রয়েছে কয়েক সহস্রেরর ইতিহাস । ষষ্টদশ শতাব্দীর কবি আব্দুল হাকিমের বঙ্গবাণী কবিতার
মাধ্যমে সে পরিচিতি আরো উচ্চ শিখরে পৌঁছেছে। সে কবির আশীর্বাদে আজও সন্দ্বীপ ধন্য। প্রাচীনকাল থেকে অধ্যবদি সে সন্দীপে জন্মলাভ
করেছেন অনেক জ্ঞানী গুণী কবি শিল্পী সাহিত্যিক ওলামায়ে কেরাম। যার প্রেরণায় আজও সন্দীপ সদা জাগ্রত,সদা প্রাণ চঞ্চল ।
সারা পৃথিবীজুড়ে সন্দ্বীপ বাসীর অগনন বিচরণ। যার প্রেক্ষিতে প্রতিনিয়ত যোগ হচ্ছে বাংলাদেশের রিজার্ভে বৈদেশিক মুদ্রা ।সবদিক দিয়ে
সন্দ্বীপ বাংলাদেশের ভৌগলিক বিচ্ছিন্ন হলেও সব সময় থাকে আলোচনা পর্যালোচনার শীর্ষে । তাই আমরা সন্দীপ বাঁশি
সন্দীপ নিয়ে গর্ব করি
সন্দ্বীপ আমাদের অহংকার।
এবার আসি মূল কথায় ;তা হল বাংলাদেশের বাণিজ্যিক শহর চট্টগ্রামের কুল ঘেঁষে সাগর নদী বেষ্টিত ইতিহাস ঐতিহ্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে
ভাঙ্গা গড়ার সন্দীপ । শত দুঃখ বেদনার শব্দে ভয় ভীতির মাঝে বাস করে সন্দ্বীপ বাসী। সাগরের ঢেউ আঁচড়ে পড়ে সন্দীপের গায়।
যাতায়াতের প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ হয়রানির পরও সন্দীপ মাটি ও মানুষের একাকার হয়ে আছে । এখানে বসবাস করতে মানুষ অধিক স্বচ্ছন্দ
বোধ করেন । আর সে অসম সম্ভাবনার সোনালী দ্বীপরে যাবতীয় অবকাঠামো সাথে শিক্ষার জন্য গড়ে উঠেছে সরকারি- বেসরকারি
অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। তথ্য মতে এখানে রয়েছে ৪টি কলেজ, একটি মহিলা কলেজ ৩টি ফাজিল মাদ্রাসা ,একটি আলিম মাদ্রাসা নয়টি দাখিল
মাদ্রাসা ২৮ টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩টি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,১টি জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়, ১৪৯ টি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৩১ টি প্রাক-প্রাথমিক
বিদ্যালয় ১৯ টি কিন্ডারগার্ডেন সহ আরবি শিক্ষার জন্য রয়েছে ছোট-বড় ৫০ এর মত প্রাথমিক নূরানী মাদ্রাসা যা শিক্ষা বিস্তারের অবদান রাখার
উল্লেখযোগ্য মাধ্যম। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হওয়া সত্ত্বেও দ্বীপের শিক্ষিতের হার ৫০% এর উপরে যা অত্যন্ত সন্তোষ জনক বলে বিবেচিত।
কেননা সমতল এ এলাকার মত সুবিধা সমূহ ভৌগোলিক তুলনার সুবিধা শিক্ষায় পিছিয়ে নেই । এখানকার জনগণ বাংলাদেশের সরকারি
বিভাগের দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জেলা উপজেলা শহরে এমনকি বিভিন্ন অঞ্চলে সচিবালয়ে সম্মানজনক আসনে অসীম।
এর পিছনে রয়েছে এ জনপদের শিক্ষারুরাগ এর প্রতি ভালোবাসা তথা দেশপ্রেম।
বলা বাহুল্য এ দীপের মানুষের ইসলামের প্রতি ভালোবাসা সে প্রাচীনকাল থেকে। সকলের জানা চট্টগ্রাম পূর্ব নাম ছিল ইসলামাবাদ।
আরব বণিক ও ধর্মপ্রচারকগণ বঙ্গোপসাগরের শ্রীলংকা ও মালবার দ্বীপঘেঁষে উপকূলীয় এলাকার সন্দীপ যাত্রা বিরতি করতেন ।
পরক্ষণে চট্টগ্রামে তাদের মুল আস্তানা ঘেড়ে ইসলামের মহান বাণী আদর্শ দিয়ে এ অঞ্চলের মানুষদেরকে ইসলামের শিক্ষিত করতেন।
শুধু তাই নয় চীন-ইন্দোনেশিয়া সহ পূর্বাঞ্চলের যাত্রাকালে ও ধর্মযাজক বণিকরা বেশিরভাগ সন্দ্বীপ যাত্রা বিরতি করতেন বলেও
ইতিহাস গ্রন্থে পাওয়া । কালের বিবর্তনে এসবের প্রভাব সন্দ্বীপে ঘরে উঠেছে অনেক ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান সে অতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান গুলোর
মধ্যে সরকারি সিলেবাসভুক্ত অনুমোদিত তিনটি প্রতিষ্ঠান যথা উত্তর সন্দীপের গাছুয়াতে কালের সাক্ষী হয়ে দ্বীনি শিক্ষায় অবদান রেখে
আসছে কাঠঘর ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা । সন্দীপ কমপ্লেক্স কেন্দ্রিক বশিরিয়া আহমদিয়া আবু বক্কর সিদ্দিক ফাজিল মাদ্রাসা।
যা এ অঞ্চলের ইসলামিক দ্বীনি শিক্ষার এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা।
সন্দ্বীপের ইতিহাস রচনা করতে গেলে অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। তারপর এমন একটি ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসার কথা বলব যা ,সন্দীপ বাসীর
হৃদয় স্পন্দন লক্ষ মানুষের ভালোবাসা ও অস্তার প্রতীক। এ মাদ্রাসা প্রতিটা মানুষের হাত এ মাদ্রাসার মাথার উপর।
আর মাদ্রাসাটি এ অঞ্চলের লক্ষদিক নারী -পুরুষকে বক্ষে নিয়ে সন্দ্বীপের একমাত্র রাজ পথের ধারে তথা সন্দীপের দেলোয়ার খাঁ সড়কের
সাইডে মাইটভাঙ্গা ইউনিয়নে মাঝখানে উপ- মহাদেশের শ্রেষ্ঠ ধর্মপ্রচারক জৈনপুরি পীরের নাম অনুসারে
কারামত আলী জৌনপুরীর তত্ত্বাবধানে এবং পরামর্শে অত্র এলাকায় ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অবদানে ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে মাদ্রাসাটি ।
যার নাম কারামতি এই মাদ্রাসা যার বর্তমান অফিশিয়াল নাম ’সন্দীপ কারামতীয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা’
মজার ব্যাপার হলো স্বল্প সময় মাদ্রাসাটি দ্বীনি শিক্ষায় মানুষের আশাও আকাঙ্ক্ষার শতভাগ প্রতিফলন ঘটায় এই অঞ্চলে মানুষ এ মাদ্রাসাটিকে
নিজের ঘর-বাড়ি থেকেও বেশি ভালোবাসা শুরু করে। যার ফলশ্রুতিতে স্থানের নামে সাধিত হয়ে হয়ে মুখে মুখে পরিচিতি লাভ করে কারামতিয়া
সন্দ্বীপের যে কোন স্থান থেকে এক নামে চিনে কারামতিয়া।
শুধু তাই নয় সন্দীপ বাসীরা পৃথিবীর যে প্রান্তে থাকুক না কেন কারামতিয়া বললেই উঠে আসে সন্দীপ কারামতিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা ।
তাই সন্দ্বীপবাসী এ মাদ্রাসাকে নিয়ে অতীব গর্ব করে এবং তা বাস্তবতার দিক দিয়েও গ্রহণযোগ্য।
তাহলে এই মাদ্রাসাটি এত ধাম ধাম বলার অপেক্ষায় রাখে না । যে মাদ্রাসায় দেশখ্যাত সন্দীপ খ্যাত বড় বড় শিক্ষাবিদ ওলামায়ে কেরাম
এ মাদ্রাসার শিক্ষক হিসেবে মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে অনন্য অবদানের স্বাক্ষর রেখেছিলেন যার ফলশ্রুতিতে এ মাদ্রাসা থেকে শিক্ষা
গ্রহণ করে জীবন সংগ্রামের অনেক স্ব স্ব স্থানে সম্মানজনক পেশায় অধিষ্ঠিত আছেন।
শিক্ষক প্রশাসনিক এমনকি শিল্প উদ্যোক্তা ও তৈরি করে এই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠার সফলতার জন ধন্য হয়েছেন।
ইমাম সাহেব খতিব ধর্মপ্রাণ মানব সৃষ্টিতে এ মাদ্রাসার অবদান সন্দ্বীপে অদ্বিতীয় । পুরো সন্দীপ বাঁশির গর্ব কারামতিয়া ফাজিল মাদ্রাসা।
শিক্ষার কর্ম ধারার আজও বহমান। এখানের ছাত্রীরা এখনো ঢাকা-চট্টগ্রাম সহ বিভিন্ন প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় পড়াশুনা করে আগামী দিনের
শ্রেষ্ঠ নাগরিক শ্রেষ্ঠ শিক্ষাবিদ হিসেবে নিজেকে গড়ে সন্দীপের সম্মান তথা বিশ্বময় বাংলাদেশের সম্মান বয়ে আনবে সে প্রত্যাশা সন্দীপবাসীর।
এমন এক ইতিহাস ঐতিহ্যের মুকুট পড়ে অত্র মাদ্রাসাটি বিগত সরকারের সু নজরে পড়েনি।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ কমিটি শত চেষ্টা করেও একটি ভবন ও মাদ্রাসার ভাগ্য জোটে নি।
যার জন্য মাদ্রাসা প্রেমিকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ এবং ধ্বিক্কারের বহিঃপ্রকাশ ।নানাবিধ উন্নয়নে হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ আসলেও অজ্ঞাত
কারণে মাদ্রাসাটির জন্য সব সোনার হরিণী রয়ে গেল । অথচ সেকেলর গড়া জরাজীর্ণ স্যাতসেতে মেজে স্থানীয় ভবনের ক্লাস করতে হয়
১২০০ অধিক ছাত্রছাত্রীদের। ভবনের অভাবে গড়া যায়নি মানসম্মত গ্রন্থাগার এমন কি শিক্ষকদের জন্য নাই সুন্দর মনোরম অফিস কক্ষ
যা আধুনিক মান সম্মত শিক্ষার অন্তরায়।অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হচ্ছে যেখানে বসে মুসলমানদের ছেলেমেয়েরা কোরআন হাদিস ও ইসলামী
শিক্ষা গ্রহণ করবে তার যদি এমন দুরবস্থা হয় তাহলে প্রতিবাদী ভাষা কি হবে আমাদের জানা নেই।
উল্লেখ্য এখানে প্রথম শ্রেণী থেকে ফাজিল ডিগ্রী পর্যন্ত এমনকি প্রথম শ্রেণীর পূর্বে দুটি ক্লাস বর্তমানে নূরানী ক্লাস হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত ।
যেখানে কোরআন মজিদ ও সহি সূরা দুয়া শিক্ষা দেওয়া হয়।
সে মর্মে যে শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজন অপ্রতুল। সেজন্য অত্র মাদ্রাসার ভবন নির্মাণ অতীব জরুরী ।
যদিও তিনটি ভবন রয়েছে তা মেয়াদোত্তীর্ণ যরাঝীর্ণ ভাবে শুধু ঝুকি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
যার কারণে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের সর্বদা উদ্যোগ উৎকণ্ঠায় কাটাতে হয় ।এ অঞ্চলের ঝড় তুফান দেখা দিলে ভয়ে ভয়ে
ক্লাস পরিচালনা করতে হয় যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
এমন ক্লান্তিকালে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসী সন্দীপের জনগণ প্রবাসী শিল্পপতি দেশবাসী মাদ্রাসা ভবন নির্মাণ কল্পে এগিয়ে আসবেন
এ প্রত্যাশাক রাখে। এ ঝড়াঝীর্ণ ভবনগুলো ভেঙ্গে নতুন ভবন করা না গেলে এ অঞ্চলের এমন সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছন্দপতন গড়াবে
তাতে কোন সন্দেহ নেই। এ দায় কে নেবে? তাই আসুন যার যার চেষ্টা করি। এসনামধন্য প্রতিষ্ঠানের নতুন ভবন নির্মাণ করে প্রতিষ্ঠানটিকে
আধুনিক ছোঁয়ায় রাঙ্গিয়ে তুলি।
আল্লাহ আমাদের সহায় হোন।
গ্রন্থনায় মাওলানা নুর আহমদ চৌধুরী
প্রভাষক আরবী
সন্দ্বীপ কারামতিয়া ফাযিল মাদ্রাসা।
সীতাকুণ্ড হোটেল মালিক সমিতির সভাপতির ও সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপ-প্à¦... বিস্তারিত
লায়ন্স ক্লাব অব চট্টগ্রাম লিবার্টির উদ্যোগে সীতাকুণ্ডে চক্ষু ও স্বাস্থ্যসেবামূলক কর্মসূচি অনুষ... বিস্তারিত
আসন্ন দূর্গাপুজা সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক... বিস্তারিত
সীতাকুণ্ড দক্ষিণ বাজার জালাল ভূঁইয়া মার্কেটের ব্যবসায়ীরা গতকাল ৯ অক্টোবর বেলা ১২ টা সময় জালাল... বিস্তারিত
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে সাউথ সন্দ্বীপ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে রাসূল (সা.) এর সীরাত (জীবনী) শীর্ষক সাধà¦... বিস্তারিত
সীতাকুণ্ডে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী উপজেলা শাখার উদ্যোগে জরুরি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এà¦... বিস্তারিত
-মোঃ তাজুল ইসলাম কামরুল " আমাদের যুগে আমরা যখন খেলেছি পুতুল খেলা, তোমরা এ যুগে সেই বয়সেই লেখাপড়... বিস্তারিত
সীতাকুণ্ড হোটেল মালিক সমিতির সভাপতির ও সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সহ সভাপতি বিরুদ্ধে ফেসবুকে অপ-প্à¦... বিস্তারিত
লায়ন্স ক্লাব অব চট্টগ্রাম লিবার্টির উদ্যোগে সীতাকুণ্ডে চক্ষু ও স্বাস্থ্যসেবামূলক কর্মসূচি অনুষ... বিস্তারিত
আসন্ন দূর্গাপুজা সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে চট্টগ্রাম অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক... বিস্তারিত