মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:১০ এএম
চট্টগ্রামের হাটহাজরী বাংলাদেশের ইতিহাসে আজকের দিনটি এক অনন্য অধ্যায় হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ, সামাজিক ব্যবসার পথপ্রদর্শক এবং বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুছ আজ প্রথমবারের মতো সরকারি দায়িত্বে নিজ জেলা চট্টগ্রামে সফর করলেন। এটি নিছক প্রশাসনিক সফর নয়, বরং একটি শেকড়ে ফিরে যাওয়া, একটি মাটি ও মানুষের সঙ্গে গভীর সংলাপের দিন।
হাটহাজারী থেকে নোবেল, নোবেল থেকে দেশের রাষ্ট্র প্রধান প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনুছ। চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার শিকারপুর ইউনিয়নের এক নিভৃত গ্রাম বাথুয়া। এখানেই জন্ম নিয়েছিলেন সেই কিশোর, যিনি একদিন দারিদ্র্য বিমোচনের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করলেন বিশ্বসভায়। তাঁর হাত ধরেই ‘গ্রামীণ ব্যাংক’ ধারণাটি বিশ্বমঞ্চে আলোড়ন তোলে। মাইক্রোক্রেডিটের মাধ্যমে লাখো নারীর হাতে ক্ষমতা পৌঁছে যায়। তারই স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৬ সালে তিনি লাভ করেন নোবেল শান্তি পুরস্কার।
আজ সেই মানুষ রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ দায়িত্বে আসীন হয়ে ফিরেছেন নিজের মাটিতে, যেখানে তাঁর শৈশব, স্বপ্ন আর সংগ্রামের বীজ বপন হয়েছিল।
ড. ইউনুছ এক সময় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন। আজ ৩৬ বছর পর সেই পরিচিত অঙ্গনেই তিনি ফিরে এলেন, তবে এবার আসাটা ভিন্ন। আজ এসেছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে। দেশের একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে। তাঁর আগমন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এক অন্যরকম পরিবেশ সৃষ্টি করে।
তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে শিক্ষায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও নৈতিক নেতৃত্ব তৈরির প্রতি অঙ্গীকার।
যিনি হাভার্ড, অক্সফোর্ড, জাতিসংঘসহ বিশ্বমঞ্চে নিজের অবস্থান তৈরী করেছেন, তিনিই আজ নিজ গ্রামে আত্মীয়স্বজনের মাঝে, সেই বাথুয়া গ্রামে হাসিমুখে । রাষ্ট্রের দায়িত্বের চাপ নিয়েও খুঁজে নিচ্ছেন শৈশবের গ্রামের প্রিয় মুখগুলো।
এ দৃশ্য আমাদের শেখায়—একজন প্রকৃত নেতার পরিচয় শুধু তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিতে নয়, বরং তাঁর শেকড়ের প্রতি আনুগত্যও বটে।
চট্টগ্রামে তাঁর সফরজুড়ে ছিল একাধিক তাৎপর্যপূর্ণ কর্মসূচি:
এই সফর কেবল নীতি ও উন্নয়ন ঘিরে নয়, বরং মূল্যবোধ, দৃষ্টিভঙ্গি ও নেতৃত্বের নতুন আদর্শ স্থাপন করে গেল।
আজকের দিনটি শুধু একজন রাষ্ট্রনায়কের আগমন নয়, বরং তা নতুন দিশার সূচনা। যখন রাষ্ট্রের শীর্ষে একজন নৈতিক, চিন্তাশীল ও আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত নেতা থাকেন, তখন দেশের উন্নয়নও পায় নীতি, দৃষ্টি ও মানবিকতার আলো।
বাথুয়া গ্রামের সেই শিশুটি আজ দেশ চালাচ্ছেন। তাঁর পায়ের ধুলোয় মিশেছে শিকড়ের মাটি, হৃদয়ে জ্বলে জনতার আশা। আমরা বিশ্বাস করি—ড. মুহাম্মদ ইউনুছের নেতৃত্বে এবার নিরসন হতে পারে জলাবদ্ধতা নিরসন। চট্টগ্রামবাসীর জীবনে বর্ষাকাল মানেই দুর্ভোগ, জলাবদ্ধতা ও নাগরিক দুঃস্বপ্ন। ড. ইউনুছ এই প্রকট সমস্যাটিকে সর্বোচ্চ
অগ্রাধিকার দিয়ে, ইতিমধ্যে তিনি চারজন উপদেষ্টাকে নিয়োগ দিয়েছেন চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের সমন্বয় ও বাস্তবায়ন দেখভাল করার জন্য।
যুগ যুগ ধরে চলে আসা ব্যবস্থাগত অবহেলার প্রতিফলন এই জলাবদ্ধতা। এটাকে প্রকৌশল, পরিবেশ ও পরিকল্পনার সমন্বয়ে সমাধান করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন বর্তমান সরকার।
খাল পুনরুদ্ধার, ড্রেনেজ সিস্টেম সংস্কার ও বৃষ্টির পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়ানোসহ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ঘোষণা দিয়েছেন সরকার প্রধান।
চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়ন নিয়ে আজ অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে ড. ইউনুছ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে দেশের অর্থনীতির গতি বাড়াতে হলে এই বন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতেই হবে। তিনি বলেন, "চট্টগ্রাম বন্দর কেবল একটি স্থাপনা নয়, এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির হৃদপিণ্ড। এর প্রতিটি স্পন্দনেই দেশের শিল্প, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের ছায়া পড়ে।"
তিনি পোর্ট ম্যানেজমেন্ট, লজিস্টিক হাব, ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম ও টার্মিনাল সম্প্রসারণসহ একগুচ্ছ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এতে আশ্বাস মিলেছে যে, চট্টগ্রাম বন্দর আর শুধু অতীত গৌরব নয়, ভবিষ্যতের সম্ভাবনাও হয়ে উঠবে।
বহু প্রতীক্ষিত কালুরঘাট সেতুর উদ্বোধন আজকের দিনের আরেক তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। চট্টগ্রাম দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এই সেতু। আজ সেটির শুভ উদ্বোধন করে ড. ইউনুছ বলেন, “এই সেতু শুধু দুই পাড়কে যুক্ত করছে না, এটি যুক্ত করছে মানুষের স্বপ্ন, সম্ভাবনা এবং দেশের দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নকে।”
নতুন সেতুটি শুধু যানবাহনের গতি বাড়াবে না, বরং পণ্য পরিবহন ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও বিরাট ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সকালে চট্টগ্রাম শাহআমানত বিমানবন্দরে এসে পৌছালে এ-সময় সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন প্রধান উপদেষ্টাকে স্বাগত জানান।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে শুভেচ্ছা ... বিস্তারিত
উপজেলাধীন জঙ্গল সলিমপুরে অস্হায়ী র্যাব ক্যাম্প কে লক্ষ্য স্হানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী এলোপাতারী ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, মানুষকে বলা হয়- ‘আশরাফুল মাখলুকাত’।... বিস্তারিত
বাংলাদেশে উৎসব এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে—এ যেন দীর্ঘদিনের এক অলিখিত বাস্তবতা। কিন্ত... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সাম্প্রতিক গ্রাফিতি ইস্যু নিয়ে এক বক্তব্যে দাবি... বিস্তারিত
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে আগামী ১৯ মে থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী “ভূমিসেবা মেলা-২০২৬”। এ উপলক্ষে ... বিস্তারিত
আন্জুমানে মোত্তবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারীর উদ্যোগে এবং লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং সন্দ্বীপ ও লিও ক... বিস্তারিত
হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অগ্নি নির্বা... বিস্তারিত
‘সৃজনে আনন্দ’—এই প্রত্যয়কে ধারণ করে হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার ব... বিস্তারিত