মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:০৩ এএম
বর্ষাকালে পাহাড়ধসে আর কত মৃত্যু হলে আমরা জাগব?
চট্টগ্রামের বর্ষাকাল যেন প্রতি বছরই ভয়াল এক দুঃস্বপ্ন হয়ে ফিরে আসে নগরবাসীর জন্য । বৃষ্টি নামলেই আতঙ্ক ঘিরে ধরে নগরবাসীকে, বিশেষ করে পাহাড়ঘেঁষা এলাকায় বসবাসরত মানুষদের। চারদিক থেকে শোনা যায় পাহাড়ধসের খবর, ভেঙে পড়া মাটির নিচে চাপা পড়ে নিঃশেষ হয়ে যায় একটি বা একাধিক পরিবার। অথচ এই মৃত্যু, এই ধ্বংস—সবই পূর্বানুমেয়। এসব মৃত্যু কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ নয়, বরং আমাদের অব্যবস্থাপনা, দায়িত্বহীনতা এবং দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার চরম প্রতিফলন।
গত দুই দশকে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসে প্রাণ হারিয়েছে কমপক্ষে ২৫০ জন। এর বাইরে আহত, গৃহহীন, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যাও কম নয়। প্রতি বছরই বর্ষা শুরু হওয়ার আগে প্রশাসন একাধিক ঝুঁকিপূর্ণ বসতি চিহ্নিত করে, মাইকিং করে, সতর্কতা জারি করে। কিন্তু বর্ষা শেষে দেখা যায়, সেই একই জায়গায় আবারও মানুষ বসবাস করছে। যে পরিবারগুলোকে "পুনর্বাসন" করার কথা, তারা কখনো আশ্রয় শিবিরে যায় না, বা গেলেও দীর্ঘস্থায়ী কোনো নিরাপদ বন্দোবস্ত পায় না। ফলে পাহাড়ের গা ঘেঁষেই আবারও গড়ে ওঠে জীবনের ঝুঁকিপূর্ণ আস্তানা। এ এক চক্রাকারে ঘুরে চলা মৃত্যুর গল্প।
কারা দায়ী?
এ দায় শুধুই বাসিন্দাদের নয়, বরং এর বড় একটি অংশ পড়ে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, বন বিভাগ এবং রাজনৈতিক নেতাদের ওপর। চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে মৃত্যুর ঘটনাগুলো তদন্ত করতে গিয়ে প্রায় প্রতিবারই উঠে এসেছে অবৈধ দখল, পাহাড় কাটা, ভূমি দখলদারি, দুর্বল নগর পরিকল্পনা ও সমন্বয়হীনতা। কিন্তু তদন্তের রিপোর্ট কেবল নথির পাতায় সীমাবদ্ধ থাকে। কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না, কারও বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বরং বছরের পর বছর ধরে অবৈধ দখল ও বসতির সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
এছাড়া রাজনৈতিক ছত্রছায়া কিংবা প্রশাসনিক দুর্বলতার কারণে অনেক ক্ষেত্রেই পাহাড় কেটে প্লট তৈরি করা, অবকাঠামো নির্মাণ কিংবা বসতি স্থাপন চালু থাকে দৃষ্টির আড়ালে। বনভূমি উজাড় করে পাহাড়ি জলাধার ভরাট করা হয়। ফলে মাটি ধরে রাখার যে প্রাকৃতিক ক্ষমতা, সেটিও হারিয়ে যেতে থাকে। একবার ভারি বৃষ্টি হলেই পাহাড় ঢলে পড়ে মানুষের ওপর।
প্রতিকার কোথায়?
এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য চাই সুদূরপ্রসারী ও বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা। কেবল উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, বরং প্রয়োজন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য নিরাপদ ও স্থায়ী পুনর্বাসন। আশ্রয়কেন্দ্র নয়, বরং কাজের সুযোগ, শিক্ষার ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্যসেবাসহ একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনের পরিবেশ তৈরি না করলে মানুষকে পাহাড় থেকে সরিয়ে আনা অসম্ভব। শুধু মাইকিং করে ভয় দেখিয়ে মানুষকে উচ্ছেদ করাও অনৈতিক।
একই সঙ্গে অবৈধ পাহাড় কাটা রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। প্রয়োজন হলে সেনাবাহিনী বা র্যাবের সহায়তায় অভিযান চালাতে হবে। ভূমি ব্যবহার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে কঠোরভাবে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, বন বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয় তৈরি করতে হবে একটি সর্বোচ্চ কর্তৃপক্ষের অধীনে। কেউ দায় এড়াতে পারবে না—এই বার্তা দিতে হবে স্পষ্টভাবে।
জলবায়ু পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ সংকটের কারণে দেশে এখন হঠাৎ অতি বৃষ্টি কিংবা ঘন ঘন মৌসুমি ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে পাহাড়ধস আরও ঘন ঘন ঘটবে—এ আশঙ্কা অমূলক নয়। সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে চট্টগ্রাম শহর ভয়াবহ দুর্যোগের মুখে পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা বহুদিন ধরে বলে আসছেন, নগরায়ণ ও পরিবেশের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা না করা গেলে চট্টগ্রাম হবে দেশের পরিবেশগত দুর্যোগের অন্যতম হটস্পট। অথচ এখনো সময় আছে পরিকল্পিত পদক্ষেপ নেওয়ার। দরকার শুধু রাজনৈতিক সদিচ্ছা, প্রশাসনিক দক্ষতা, এবং মানুষের জীবনকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মানসিকতা।
আমরা কি শিখব না?
একটি সভ্য দেশে একই জায়গায় বারবার মৃত্যু হওয়া উচিত নয়। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের জিজ্ঞেস করতে হয়—আমরা কি চট্টগ্রামবাসীর প্রাণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হব বারবার? বর্ষা এলেই মৃত্যুর সংখ্যা গুণতে বসে পড়ব, অথচ বছরের বাকি সময় চুপচাপ থাকব—এই কি আমাদের প্রশাসনিক সংস্কৃতি?
এবার হয়তো আমাদের সবারই জেগে ওঠার সময় হয়েছে। আমরা চাই, আর কোনো বাবা-মা যেন সন্তানের নিথর দেহ কোলে নিয়ে না কাঁদে। আর কোনো শিশু যেন স্কুলে না যেতে পারে পাহাড়ধসের কারণে। আর কোনো পরিবার যেন বর্ষাকালকে মৃত্যু-সংবাদ হিসেবে না দেখুক।
চট্টগ্রামের পাহাড় ধসে মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়—এটি ব্যর্থতার ফল। এখনো যদি শোধরানো না যায়, তবে এই ব্যর্থতার দায় আমাদের সবাইকেই নিতে হবে—প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে।
চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সম্মানিত পরিচালক এবং দেশসেরা অনুপ্রেরণাক... বিস্তারিত
সন্দ্বীপে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদের সম্মে... বিস্তারিত
প্রবাসী ও বৃহত্তর চট্টগ্রামে বসবাসরত সন্দ্বীপবাসীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সংগঠন সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন ... বিস্তারিত
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দেশপ্রেম, সততা ও সচেতনতা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে প... বিস্তারিত
৩ মে: রঙ-পেন্সিলের ছোঁয়ায় কাগজ জুড়ে ফুটে উঠল শিশুমনের কল্পনা, স্বপ্ন আর অনুভূতির নান্দনিক প্রকাশ। ... বিস্তারিত
অসহায় মানুষের আইনি সহায়তা এবং এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যাডভোকেট... বিস্তারিত
আন্জুমানে মোত্তবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারীর উদ্যোগে এবং লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং সন্দ্বীপ ও লিও ক... বিস্তারিত
হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অগ্নি নির্বা... বিস্তারিত
‘সৃজনে আনন্দ’—এই প্রত্যয়কে ধারণ করে হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার ব... বিস্তারিত