মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫০ এএম
ঘূর্ণিঝড়ের মৌসুম, সাগরে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত, উপকূলে দিনভর আষাঢ়ের ভারী বর্ষণ। এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মংচিংনু মারমা ৭ জুলাই, সোমবার, সকালে পৌছান চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের দুর্গম দ্বীপ ইউনিয়ন উড়িরচর-এ। উদ্দেশ্য—উপজেলার সবচেয়ে প্রান্তিক ও গৃহহীন মানুষের জন্য নির্মিত ৬৮টি ব্যারাক হাউজের ৩৪০টি নতুন ঘরের হস্তান্তর কার্যক্রমে অংশ নেওয়া।
এই ঘরগুলো নির্মাণ করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায়। প্রতিটি ব্যারাকে রয়েছে পাঁচটি ইউনিট, যেখানে একটি করে পরিবার বসবাস করতে পারবে। প্রতিটি ইউনিটে রয়েছে পৃথক রান্নাঘর ও বাথরুম। সোমবার এসব ঘর আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয় সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসনের কাছে।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মিত এই প্রকল্পে রয়েছে ৬৮টি পাকা ব্যারাক হাউজ, যেখানে মোট ৩৪০টি ঘর, ১৩৬টি টয়লেট, ৬৮টি বাথরুম এবং ১৭টি গভীর নলকূপ।
আয়োজনে নৌবাহিনীর পক্ষে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করেন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম তৌহিদুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মংচিংনু মারমা।
সন্দ্বীপের ইউএনও মংচিংনু মারমা হস্তান্তর অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বলেন,“আজকের দিনটি সন্দ্বীপের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেও আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি, কারণ এই ঘরগুলো শুধু কংক্রিটের কাঠামো নয়—এগুলো একটি নিরাপদ জীবনের প্রতিশ্রুতি।
আমাদের যেসব মানুষ বছরের পর বছর খোলা আকাশের নিচে, ঝড়ের আশঙ্কায় দিন কাটিয়েছেন—এই ঘরগুলো তাঁদের কাছে আশ্রয়, মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং স্থায়িত্বের প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে।
আমি গর্বিত, আজ এই দ্বীপে দাঁড়িয়ে আমি সেই প্রত্যক্ষ সাক্ষী, যখন রাষ্ট্র তার প্রান্তিক মানুষকে জড়িয়ে ধরছে।
এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ নৌবাহিনী অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে। প্রকৌশল দপ্তরের কর্মীদের, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের এবং স্থানীয় জনগণের প্রতি আমি আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
আগামী ২-৩ মাসের মধ্যে যাচাই-বাছাই করে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা হবে। আমি প্রত্যাশা করি, উপকারভোগীরা এই ঘরগুলো সযত্নে রক্ষা করবেন এবং একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও সহনশীল সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখবেন।”
গৃহহীন পরিবারগুলোর জন্য এই ঘরগুলো আশার আলো হয়ে থাকবে।
উড়িরচরের মতো একটি দুর্গম, দুর্যোগপ্রবণ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এলাকায় বসবাস করা গৃহহীন পরিবারের জন্য এমন একটি স্থায়ী পাকা বাসস্থান কেবল মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়—এটা একধরনের সামাজিক স্বীকৃতি, মর্যাদা এবং ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
এই ঘরগুলো পেলে পরিবারগুলো ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস কিংবা বর্ষার পানি থেকে নিরাপদ থাকবে। শিশুদের জন্য পড়াশোনার পরিবেশ তৈরি হবে, নারীদের জন্য নিরাপদ রান্নাঘর ও শৌচাগারের ব্যবস্থা তৈরি হবে।
মংচিংনু মারমা আরো বলেন, একটি পাকা ঘর পরিবারে স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক আত্মবিশ্বাস আনে। অনেক সময় গৃহহীন পরিবারগুলো নানা কারণে শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, ঘরের অভাবে স্বাস্থ্য ঝুঁকিও বাড়ে। এই প্রকল্প সেই বাস্তবতাকে বদলে দেওয়ার সুযোগ এনে দিচ্ছে।
সন্দ্বীপ উপজেলার অন্তর্গত ইউনিয়ন উড়িরচর, মূলত একটি নদী-মোহনার দ্বীপ। চারপাশে বঙ্গোপসাগর ও সন্দ্বীপ চ্যানেল বেষ্টিত। দ্বীপটির আয়তন প্রায় ১০৫.২৩ বর্গকিলোমিটার। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ২০১১ সালে জনসংখ্যা ছিল ১১,৯২৩ জন, যদিও স্থানীয়ভাবে ধারণা করা হয় বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ বসবাস করছে এখানে।
এই দ্বীপে এখনও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি। প্রধান দুটি সড়ক ছাড়া বাকিগুলো কাঁচা। বর্ষাকালে চলাচল অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে।
এখানে সাক্ষরতার হার মাত্র ২৬.৪০%, যা জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেক কম। এখানে রয়েছে ১টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ৩টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি আনন্দ স্কুল এবং ৫টি মাদ্রাসা।
উড়িরচর একসময় জেগে ওঠা চর ছিল—১৯৭০ সালের দিকে। এরপর ১৯৯১ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়, ২০০৭ সালের সিডর ও ২০০৯ সালের আইলার মতো দুর্যোগে বহুবার বিপর্যস্ত হয়েছে দ্বীপটি।
নৌবাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়িত জনকল্যাণ আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় ইতোমধ্যে বাংলাদেশ নৌবাহিনী বাগেরহাট, ভোলা, পিরোজপুর, বরগুনা, বরিশাল, ঝালকাঠি, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী ও কক্সবাজার জেলার ২৩৩টি প্রকল্পে মোট ৪,৫৬০টি ব্যারাক হাউজ নির্মাণ করেছে, যাতে পুনর্বাসন পেয়েছে প্রায় ৩৪,১৬৫টি পরিবার।
এই প্রকল্পের চট্টগ্রামের অংশ হিসেবে এবার উড়িরচরের ৬৮টি ব্যারাকে ৩৪০টি ইউনিট তৈরি করে তা হস্তান্তর করা হলো সন্দ্বীপ উপজেলা প্রশাসনের কাছে।
নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও তারা সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সম্মানিত পরিচালক এবং দেশসেরা অনুপ্রেরণাক... বিস্তারিত
সন্দ্বীপে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদের সম্মে... বিস্তারিত
প্রবাসী ও বৃহত্তর চট্টগ্রামে বসবাসরত সন্দ্বীপবাসীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সংগঠন সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন ... বিস্তারিত
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দেশপ্রেম, সততা ও সচেতনতা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে প... বিস্তারিত
৩ মে: রঙ-পেন্সিলের ছোঁয়ায় কাগজ জুড়ে ফুটে উঠল শিশুমনের কল্পনা, স্বপ্ন আর অনুভূতির নান্দনিক প্রকাশ। ... বিস্তারিত
অসহায় মানুষের আইনি সহায়তা এবং এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যাডভোকেট... বিস্তারিত
আন্জুমানে মোত্তবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারীর উদ্যোগে এবং লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং সন্দ্বীপ ও লিও ক... বিস্তারিত
হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অগ্নি নির্বা... বিস্তারিত
‘সৃজনে আনন্দ’—এই প্রত্যয়কে ধারণ করে হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার ব... বিস্তারিত