মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫০ এএম
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনের সাম্প্রতিক উদ্যোগ আমাদের জনপ্রশাসনের একটি নতুন, মানবিক ও জনগণমুখী রূপকে সামনে এনে দিয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে সরাসরি গণশুনানি আয়োজনের যে পদক্ষেপ জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম নিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে প্রান্তিক জনগণের কাছে প্রশাসনের উপস্থিতি ও কার্যকারিতাকে দৃশ্যমান করেছে।
গতকাল ৯ সেপ্টেম্বর পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নে আয়োজিত এক গণশুনানিতে ২১টি সমস্যা ও অভিযোগ উত্থাপন করেন স্থানীয় জনগণ, যার মধ্যে ২০টিরই তাৎক্ষণিক নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়। উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে—শুধু অভিযোগ শোনা নয়, বরং দ্রুত ও বাস্তবভিত্তিক সমাধানে জেলা প্রশাসক স্বয়ং নেতৃত্ব দিয়েছেন। ভিক্ষুক ও গৃহহীন পুনর্বাসন, প্রতিবন্ধী
সহায়তা, সড়ক উন্নয়ন, শিক্ষা মানোন্নয়ন, ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা—এসব সমস্যার দ্রুত সমাধানে এই উদ্যোগ কার্যকরভাবে সহায়ক হয়েছে।
আমরা জানি, স্থানীয় পর্যায়ে বহুদিন ধরেই জনসেবায় জটিলতা, হয়রানি ও দৌড়ঝাঁপ জনমানুষের নিত্য অভিজ্ঞতা। প্রশাসনিক জটিলতা, তথ্যের অভাব এবং সরকারি দপ্তরের দুরূহ কাঠামো সাধারণ মানুষের কাছে সেবা গ্রহণকে করে তুলেছে এক দুরূহ সাধনা। এ প্রেক্ষাপটে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের এই 'প্রো-অ্যাকটিভ' ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
এখানে বিশেষভাবে গুরুত্ব পায় “টাইম-কস্ট-ভিজিট”—এই তিনটি ভোগান্তি কমানোর জন্য প্রশাসনের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সময় বাঁচানো, খরচ কমানো এবং অফিসে দৌড়াতে না হওয়া—এই তিনটি বিষয়ের বাস্তবায়নই তো ডিজিটাল বাংলাদেশ বা স্মার্ট সেবার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
এই উদ্যোগের একটি বড় প্রভাব রয়েছে প্রশাসন ও জনগণের সম্পর্কের উপর। নাগরিকদের অভিযোগ সরাসরি শোনা, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি দেওয়া—এসব মানুষের আস্থাকে ফিরিয়ে আনে। আমরা প্রায়শই দেখি, মাঠপর্যায়ের অনেক সমস্যা কেন্দ্রীয় ফাইলে গুমরে থাকে মাসের পর মাস। সেখানে একজন জেলা প্রশাসকের সরাসরি হস্তক্ষেপে সমস্যাগুলোর নিরসন কেবল কার্যকরই নয়, অনেকাংশে দৃষ্টান্তমূলক।
তবে, এই উদ্যোগকে টেকসই করতে হবে। একক ব্যক্তি উদ্যোগের বাইরে নিয়ে গিয়ে এটিকে নিয়মিত ও কাঠামোবদ্ধ করতে হবে। প্রতিটি উপজেলা, এমনকি ইউনিয়ন পর্যায়েও নির্দিষ্ট সময় ও ঘোষণা দিয়ে গণশুনানির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। প্রয়োজনে “ডিজিটাল ফিডব্যাক” সিস্টেম চালু করে এই অভিযোগগুলোর ট্র্যাকিং ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা তৈরি করা জরুরি।
পরিশেষে, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের এই প্রয়াস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, ‘সরকারি সেবা’ শব্দটি শুধুই ফরমালিটি নয়—ইচ্ছা থাকলে তা মানবিক, দ্রুত, কার্যকর ও গৃহমুখী হতে পারে। এই ধরনের পদক্ষেপ দেশের অন্য জেলা প্রশাসকদের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে।
গণশুনানিকে কেন্দ্র করে যে ধরনের ইতিবাচক সাড়া জনমানুষের মধ্যে দেখা যাচ্ছে, তা বলছে—জনগণের আস্থা ফেরানো সম্ভব, যদি প্রশাসন আন্তরিক হয়। এখন দরকার, এই ধরনের উদ্যোগকে প্রতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে সেবাকে আরও গতিশীল ও টেকসই করা।
চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সম্মানিত পরিচালক এবং দেশসেরা অনুপ্রেরণাক... বিস্তারিত
সন্দ্বীপে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদের সম্মে... বিস্তারিত
প্রবাসী ও বৃহত্তর চট্টগ্রামে বসবাসরত সন্দ্বীপবাসীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সংগঠন সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন ... বিস্তারিত
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দেশপ্রেম, সততা ও সচেতনতা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে প... বিস্তারিত
৩ মে: রঙ-পেন্সিলের ছোঁয়ায় কাগজ জুড়ে ফুটে উঠল শিশুমনের কল্পনা, স্বপ্ন আর অনুভূতির নান্দনিক প্রকাশ। ... বিস্তারিত
অসহায় মানুষের আইনি সহায়তা এবং এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যাডভোকেট... বিস্তারিত
আন্জুমানে মোত্তবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারীর উদ্যোগে এবং লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং সন্দ্বীপ ও লিও ক... বিস্তারিত
হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অগ্নি নির্বা... বিস্তারিত
‘সৃজনে আনন্দ’—এই প্রত্যয়কে ধারণ করে হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার ব... বিস্তারিত