মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৪২ এএম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে (ডাকসু) দীর্ঘদিন পর আলোচনায় এসেছে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপট। এবার নেতৃত্বে উঠে এসেছেন দুই তরুণ, যাঁরা দুজনেই পার্বত্য চট্টগ্রামের সন্তান। খাগড়াছড়ির সাদিক কায়েম নির্বাচিত হয়েছেন সহসভাপতি (ভিপি), আর রাঙামাটির এস এম ফরহাদ হয়েছেন সাধারণ সম্পাদক (জিএস)। এই দুই তরুণের সাফল্য শুধু তাঁদের পরিবারের জন্য নয়, পুরো পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জন্যও এক গর্বের বিষয়। পাহাড়ি জনপদে বেড়ে ওঠা দুই ছেলে আজ দেশের সর্ববৃহৎ বিদ্যাপীঠের নেতৃত্বে। তাঁদের এই অর্জন প্রমাণ করে—অবহেলিত অঞ্চল থেকেও মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে জাতীয় পরিসরে জায়গা করে নেওয়া সম্ভব।
সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদ—দুজনের শিক্ষাজীবন শুরু হয়েছিল স্থানীয় মাদ্রাসায়। খাগড়াছড়ি বায়তুশ শরফ মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করেন সাদিক, আর ফরহাদ দাখিল সম্পন্ন করেন রাঙামাটির লংগদু উপজেলার একটি মাদ্রাসায়। পরবর্তীতে দুজনেই চট্টগ্রামের বায়তুশ শরফ মাদ্রাসায় আলিম সম্পন্ন করে ঢাকায় ভর্তি হন। একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানে, অন্যজন সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে। এভাবে মাদ্রাসাভিত্তিক প্রাথমিক শিক্ষা তাঁদের ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করেছে। আজকের এই সাফল্য তাই একই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও এক বড় সম্মান।
সাদিকের বাবা আবুল কাশেম বলেছেন, “আমার ছেলে ভিপি নির্বাচিত হওয়ায় আমি গর্বিত। সবাই দোয়া করবেন, যেন সে দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে পারে।” অন্যদিকে ফরহাদের বাবা হাফেজ মাওলানা ফোরকান আহমদ মনে করেন, “ফরহাদের বিজয় শিক্ষার্থীদের আস্থা ও সমর্থনের প্রতিফল।” প্রতিবেশীরাও মনে করেন, তাঁদের এই অর্জন শুধু পরিবার নয়, পুরো এলাকার মর্যাদা বাড়িয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এটি এক বড় অনুপ্রেরণা।
অবশ্য এই দুই তরুণের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়েও আলোচনা রয়েছে। দুজনই ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলে যখন ক্যাম্পাসে শিবির কার্যত নিষিদ্ধ ছিল, তখনো তাঁরা নিজেদের সক্রিয় রেখেছিলেন। বিশেষত জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সাদিকের ভূমিকাই তাঁকে আলোচনায় নিয়ে আসে। এই প্রেক্ষাপটে তাঁদের নেতৃত্ব ছাত্রসমাজে নতুন প্রশ্নও তুলেছে—কোন দিকে যাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতি?
ডাকসুর ভিপি ও জিএস শুধু পদবি নয়, এটি একটি দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের অধিকার রক্ষা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা সমাধান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সমুন্নত রাখাই তাঁদের মূল কর্তব্য হওয়া উচিত। ব্যক্তি বা দলের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে তাঁরা যদি কাজ করতে পারেন, তবে পার্বত্য চট্টগ্রামের এই দুই তরুণ নেতৃত্ব বাংলাদেশের তরুণ সমাজের জন্য নতুন ইতিহাস রচনা করতে পারবেন। সাদিক ও ফরহাদের জয় প্রমাণ করেছে—প্রান্তিক অঞ্চল থেকেও জাতীয় নেতৃত্বের আসনে পৌঁছানো যায়। এখন সবার নজর তাঁদের দিকে—তাঁরা কি সত্যিই শিক্ষার্থীদের আস্থা ধরে রাখতে পারবেন?
নব্বইয়ের দশক ও ২০০০ সালের শুরুতে কাতারের রাজধানী দোহায় বড় হয়ে ওঠার সময় একটি দৃশ্য বারবার চোখে পড়ত।... বিস্তারিত
খায়রুল ইসলাম সীতাকুণ্ড :চট্টগ্রাম - সীতাকুণ্ড আসন থেকে নির্বাচিত লায়ন মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসি... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক হিসেবে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্... বিস্তারিত
আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়... বিস্তারিত
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেল... বিস্তারিত
সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমানকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও তাঁদের বিচার ... বিস্তারিত
আন্জুমানে মোত্তবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারীর উদ্যোগে এবং লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং সন্দ্বীপ ও লিও ক... বিস্তারিত
হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অগ্নি নির্বা... বিস্তারিত
‘সৃজনে আনন্দ’—এই প্রত্যয়কে ধারণ করে হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার ব... বিস্তারিত