মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:২৪ এএম
বাংলাদেশের আবৃত্তিচর্চায় এক অনন্য নাম জাহান বশীর। কারও কাছে তিনি ‘আবৃত্তির রাজপুত্র’, কারও কাছে ‘বরপুত্র’। কিন্তু সাদা কাগজকে দেওয়া তাঁর দীর্ঘ আলাপচারিতায় উঠে এসেছে আরও বহু সৃজনযাত্রার কথা।
১৯৮৮ সাল থেকে কণ্ঠচর্চা, লেখালেখি, সংগঠন, তথ্যচিত্র নির্মাণ—সব মিলিয়ে তিনি যেন এক বহুকৌণিক শিল্পীজীবনের পথিক।
গত ২০ নভেম্বর ৫৫তম জন্মদিনে ঢাকার এক মিলনায়তনে তাঁর সম্মানে আয়োজন করা হয় আবৃত্তি সন্ধ্যা ‘অনন্ত অমৃতময়’।
সাধারণের ভিড় থেকে কিছুটা সরে থাকা, নির্জনতায় ধ্যানী এই শিল্পী সাক্ষাৎকারে আড়ষ্ট হলেও কথা বলেছেন প্রাণখুলে।
আবৃত্তির হাতেখড়ি কবে?
জাহান বশীর বলেন,“একটি শিশু ব্যাকরণ না জেনেও যেমন মাতৃভাষা রপ্ত করে, আমার আবৃত্তির শুরুও তেমনই। কোনো নির্দিষ্ট তারিখ মনে নেই। তবে স্থানীয় একটি ক্লাবের আয়োজিত প্রতিযোগিতায় প্রশিক্ষণ ছাড়াই প্রথম হওয়া—সম্ভবত ১৯৮৫ সাল—আমাকে আবৃত্তির জগতে টেনে আনে।”
প্রথম প্রতিযোগিতায় কোন কবিতা?
“বিষয় নির্ধারিত ছিল—হেলাল হাফিজের ‘এখন যৌবন যার’।”
অবিরাম পথচলার শুরু
“প্রতিযোগিতা থেকে শুরু। তারপর ১৯৮৮ সালে চট্টগ্রামে শিশু থিয়েটারে প্রশিক্ষক হিসেবে আনুষ্ঠানিক আবৃত্তির পথচলা। বন্ধু ও প্রকাশক মঈন মাহমুদ উৎসাহ দিয়েছিলেন। পরে চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে দুই বছরের কোর্স করি—সম্ভবত ৯২ বা ৯৪ সালে—আর সর্বোচ্চ নম্বর পাই। প্রশিক্ষক ছিলেন সহিদুর রহমান স্যার।”
সাংগঠনিক আবৃত্তিচর্চা নিয়ে
“নব্বইয়ের দশকে চট্টগ্রাম আবৃত্তি একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ছিলাম। কিন্তু পরে সাংগঠনিক আবৃত্তিতে অপরাজনীতি ঢুকে পড়ে। তখনই নিজেকে গুটিয়ে নিয়ে ধ্যানী চর্চায় ফিরে যাই—প্রায় ১৯ বছর।”
শিশুদের জন্য কাজের অভিজ্ঞতা
“প্রথম পথচলা ছিল শিশুদের সঙ্গে। তাদের শেখাতে যে আনন্দ, অন্য কোথাও পাই না। শিশুকেন্দ্র, বাংলাদেশ নামে সংগঠন ছিল। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অনেক শিশুশিল্পীই আমার শিক্ষার্থী। পরে পেশাগত ব্যস্ততায় ও ঢাকায় চাকরিতে যোগ দেওয়ায় ছাড়তে হয়।”
শিশুসাহিত্য ও আবৃত্তিবিষয়ক বই
চট্টগ্রামে শিশুদের জন্য প্রথম আবৃত্তিবিষয়ক বই ‘আবৃত্তি শেখো মজা করে’ লিখেছিলেন তিনি।
শৈলী প্রকাশন ছাপিয়েছিল ২০০০ সালে। ছয় মাসেই বই শেষ।
এর আগে-পরে শিশুদের নিয়ে গান, মঞ্চ আয়োজন, টিভি অনুষ্ঠান—সব মিলিয়ে তাঁর সৃজনযাত্রা বৈচিত্র্যময়।
১৯ বছর পর আবার ফিরে আসা
“কিছু মানুষ আমাকে আবার আবৃত্তিতে ফিরিয়ে এনেছিলেন, যদিও এখন তাঁদের কারও সঙ্গে যোগাযোগ নেই। তবে এখন বিশ্বভরা প্রাণ সংগঠনের সভাপতি হিসেবে কাজ করছি। সারথিরা আমাকে ঘিরে আছে।”
বিশ্বভরা প্রাণ—কী এই সংগঠন?
“এটি আন্তর্জাতিক শিল্প–সাহিত্য সম্মিলিত পরিষদ। বাংলাদেশে ৫২ জেলা, পশ্চিমবঙ্গে ১৯টি জেলা, আরও বহু দেশে শাখা আছে। অনিয়মিত লিটলম্যাগও প্রকাশ করি। পূর্বে চট্টগ্রামে ‘কথাসুন্দর’ নামে লিটলম্যাগ বের করতাম।”
ঢাকায় সংগঠন না করার কারণ?
“চেষ্টা করেছিলাম—‘বঙ্গস্বর আবৃত্তি পরিষদ’ নামে। ব্যস্ততায় থেমে যায়। এখন একক চর্চাতেই বেশি বিশ্বাসী।”
ঢাকার বিভিন্ন মোর্চা নিয়ে মত
“কোনো মোর্চাকে বিশ্বাস করতে পারি না। এক নেতা দিয়ে দল হয়, মোর্চা নয়। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অফার নাকচ করেছি।”
নতুন সম্মিলিত সংগঠনের পরিকল্পনা?
“হ্যাঁ, পরিকল্পনা আছে। শতাধিক আবৃত্তিশিল্পী অপেক্ষায় আছেন। নামও চূড়ান্তের পথে। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হবে।”
লেখালেখি—শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক
শিশুদের জন্য পঞ্চাশের বেশি নাটক ও গল্পগ্রন্থ তৈরি করেছেন তিনি।
‘গুবলেট’ ও ‘বন্ধুর চিঠি’ নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে।
‘গাবলুর যাদুগিরি’ নামে জনপ্রিয় শিশু এডুটেইনমেন্ট সিরিজও তাঁর সৃষ্ট।
“২০২৬ বইমেলায় ১০টির মতো শিশুতোষ বই আসছে।”
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য রয়েছে—
‘আধুনিকোত্তর ধারার আবৃত্তি নির্মাণ ও প্রয়োগ’,
‘অনার্যনামা’ (কাব্যগ্রন্থ),
‘রোদবিন্দু’ (কাব্যোপন্যাস),
এছাড়া দুইটি প্রবন্ধগ্রন্থও।
পেশাগত জীবনের শুরু
“প্রথম পেশা সাংবাদিকতা। দৈনিক বীর চট্টগ্রাম মঞ্চে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কাজ করেছি। এরপর আবৃত্তি প্রশিক্ষণেই সময় দিতাম। পরে আলী ইমাম ভাইয়ের আহ্বানে ঢাকায় যাই। টেলিভিশন সাংবাদিকতা, তথ্যচিত্র, টেলিফিল্ম নির্মাণে যুক্ত হই। চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় টেলিফিল্মও বানিয়েছি।”
মিডিয়া প্রশিক্ষণ
“জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট থেকেই অধিকাংশ প্রশিক্ষণ—ডিজিটাল ফিল্ম থেকে সম্পাদনা সবই আব্দুল্লাহ আল মামুন, আলী ইমাম ও শেখ রিয়াজউদ্দিন বাদশাহ ভাইদের সহযোগিতায়।”
বর্তমানে কাজ
“বিশ্বভরা প্রাণ এখন আমার সন্তানসম। প্রকাশনা ও প্রযোজনায় জ্ঞানসঙ্গী প্রকাশন নিয়ে ব্যস্ত।
‘চ্যানেল মনবাংলা’য় সৃজনে যাপনে অনুষ্ঠান নির্মাণ করি।
সম্প্রতি মৈতালি ফাউন্ডেশনের ‘মৈতালি শিল্পাঙ্গন’-এর আবৃত্তি আয়োজন তত্ত্বাবধান করছি।
আগামীতে তরুণদের নিয়ে আবৃত্তির ব্যান্ড ‘রোদবিন্দু’ গড়ার প্রস্তুতি চলছে।”
সংস্কৃতি ছাড়া জীবন কেমন?
“সংস্কৃতির বাইরের জীবনের কথা ভাবতেই পারি না। খেতে পারি বা না পারি, সাহিত্য–সংস্কৃতির ভেতরেই বাঁচতে চাই। আমৃত্যু।”
শেষে সাদা কাগজের পাঠকদের উদ্দেশে তিনি বলেন,
“আপনাদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা।”
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন : সাদা কাগজ সম্পাদক
কেফায়েত উল্লাহ কায়সার
চিটাগাং উইম্যান চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি এর সম্মানিত পরিচালক এবং দেশসেরা অনুপ্রেরণাক... বিস্তারিত
সন্দ্বীপে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) সকালে উপজেলা পরিষদের সম্মে... বিস্তারিত
প্রবাসী ও বৃহত্তর চট্টগ্রামে বসবাসরত সন্দ্বীপবাসীর অন্যতম ঐতিহ্যবাহী সংগঠন সন্দ্বীপ এসোসিয়েশন ... বিস্তারিত
সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, দেশপ্রেম, সততা ও সচেতনতা ছাড়া কোনো জাতি উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে প... বিস্তারিত
৩ মে: রঙ-পেন্সিলের ছোঁয়ায় কাগজ জুড়ে ফুটে উঠল শিশুমনের কল্পনা, স্বপ্ন আর অনুভূতির নান্দনিক প্রকাশ। ... বিস্তারিত
অসহায় মানুষের আইনি সহায়তা এবং এসিড সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ অ্যাডভোকেট... বিস্তারিত
আন্জুমানে মোত্তবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারীর উদ্যোগে এবং লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং সন্দ্বীপ ও লিও ক... বিস্তারিত
হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অগ্নি নির্বা... বিস্তারিত
‘সৃজনে আনন্দ’—এই প্রত্যয়কে ধারণ করে হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার ব... বিস্তারিত