মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:১৬ এএম
বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেগম খালেদা জিয়ার আবির্ভাব কোনো দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রস্তুতির ফল নয়; বরং তা ছিল একটি নাটকীয় রাজনৈতিক শূন্যতার প্রতিক্রিয়া। স্বামী জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ব্যক্তিগত শোক থেকে রাষ্ট্রনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসার এই যাত্রা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়।
১৯৭৫ সালের আগে পর্যন্ত খালেদা জিয়া ছিলেন মূলত একজন গৃহিণী। সামরিক কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের স্ত্রী হিসেবে তাঁর পরিচয় সামাজিক হলেও রাজনৈতিক ছিল না। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলে সক্রিয় ছিলেন না, জনসভায় বক্তৃতা করেননি, এমনকি সংগঠনের নেতৃত্বও দেননি। রাজনীতির সঙ্গে তাঁর সংযোগ ছিল পরোক্ষ—স্বামীর পেশা ও সময়ের বাস্তবতার সূত্রে।
১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষে পৌঁছালে খালেদা জিয়া রাষ্ট্রের প্রথম নারী হিসেবে ‘ফার্স্ট লেডি’ হন। তবে এই অবস্থানেও তিনি প্রকাশ্য রাজনৈতিক ভূমিকা গ্রহণ করেননি। সামাজিক ও কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডেই তাঁর উপস্থিতি সীমাবদ্ধ ছিল। এই সময় তাঁকে দেখা যায় সংযত, নীরব ও রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে থাকা একজন ব্যক্তিত্ব হিসেবে।
১৯৮১ সালের ৩০ মে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ড খালেদা জিয়ার জীবন ও বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপথ আমূল বদলে দেয়। এই হত্যাকাণ্ড শুধু একটি ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডি নয়; এটি বিএনপির নেতৃত্বে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করে। সদ্য গঠিত দলটি তখন সাংগঠনিকভাবে দুর্বল এবং রাজনৈতিকভাবে দিশাহীন।
এই শূন্যতার মধ্যেই খালেদা জিয়ার নাম সামনে আসে। দলীয় নেতাদের একটি অংশ মনে করেন, জিয়ার রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও সাংগঠনিক ঐক্য রক্ষায় খালেদা জিয়াই হতে পারেন গ্রহণযোগ্য মুখ। শুরুতে তিনি নেতৃত্ব গ্রহণে অনাগ্রহী ছিলেন—এমন বর্ণনা রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুল প্রচলিত। কিন্তু সময়ের বাস্তবতা ও দলীয় চাপ তাঁকে রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবেশে বাধ্য করে।
১৯৮৪ সালে খালেদা জিয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। এটি ছিল তাঁর রাজনৈতিক জীবনের আনুষ্ঠানিক সূচনা। পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি দ্রুত দলকে সংগঠিত করার কাজে মনোনিবেশ করেন। সামরিক শাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়া তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের প্রথম বড় পরীক্ষা।
রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার শিক্ষা ছিল রাজপথকেন্দ্রিক। গ্রেপ্তার, গৃহবন্দিত্ব ও দমন-পীড়নের অভিজ্ঞতা তাঁকে ধীরে ধীরে একজন দৃঢ় রাজনৈতিক নেত্রীতে রূপান্তরিত করে। তিনি বক্তৃতায় সাবলীল হন, আন্দোলনের ভাষা আয়ত্ত করেন এবং বিরোধী রাজনীতির কৌশল রপ্ত করেন।
সমালোচকেরা বলেন, খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আগমন ছিল উত্তরাধিকারনির্ভর। তবে সময়ের সঙ্গে তিনি নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান গড়ে তুলেছেন—এটিও সত্য। ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হওয়া তাঁর নেতৃত্বকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এখানেই তিনি আর কেবল ‘জিয়ার স্ত্রী’ নন, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত এক রাজনৈতিক নেত্রী।
খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে আসা ছিল আকস্মিক, কিন্তু তাঁর টিকে থাকা ছিল সংগ্রামের ফল। ব্যক্তিগত জীবনের সীমা পেরিয়ে রাষ্ট্রনীতির কঠিন বাস্তবতায় প্রবেশ করা এই যাত্রা বাংলাদেশের রাজনীতিতে নারী নেতৃত্বের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে আছে।
ইতিহাস হয়তো তাঁর সব সিদ্ধান্তে একমত হবে না। কিন্তু একথা অস্বীকার করার উপায় নেই—খালেদা জিয়ার রাজনীতিতে প্রবেশ ছিল কাকতালীয় নয়; বরং একটি সময়ের রাজনৈতিক প্রয়োজন এবং নেতৃত্বশূন্যতার প্রতিক্রিয়া।
নব্বইয়ের দশক ও ২০০০ সালের শুরুতে কাতারের রাজধানী দোহায় বড় হয়ে ওঠার সময় একটি দৃশ্য বারবার চোখে পড়ত।... বিস্তারিত
খায়রুল ইসলাম সীতাকুণ্ড :চট্টগ্রাম - সীতাকুণ্ড আসন থেকে নির্বাচিত লায়ন মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী এফসি... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক হিসেবে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্... বিস্তারিত
আসন্ন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়... বিস্তারিত
বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেল... বিস্তারিত
সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও খলিলুর রহমানকে আইনের আওতায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ ও তাঁদের বিচার ... বিস্তারিত
আন্জুমানে মোত্তবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারীর উদ্যোগে এবং লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং সন্দ্বীপ ও লিও ক... বিস্তারিত
হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অগ্নি নির্বা... বিস্তারিত
‘সৃজনে আনন্দ’—এই প্রত্যয়কে ধারণ করে হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার ব... বিস্তারিত