মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:১৬ এএম
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কিছু নাম কেবল ব্যক্তি হিসেবে নয়, বরং একটি সময়, একটি প্রতিরোধ ও একটি অবস্থানের প্রতীক হয়ে ওঠে। বেগম খালেদা জিয়া তেমনই এক নাম। বহু সমালোচনা, বিতর্ক ও রাজনৈতিক উত্থান–পতনের মধ্যেও তিনি পরিচিত হয়েছেন একটি বিশেষ অভিধায়— ‘আপসহীন নেত্রী’। এই অভিধা কীভাবে ও কেন তাঁর নামের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত হলো, সেটিই বিশ্লেষণের দাবি রাখে।
১৯৮০-এর দশকে সামরিক শাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে খালেদা জিয়ার ভূমিকা ছিল নির্ধারক। রাষ্ট্রক্ষমতার প্রলোভন, দমন-পীড়ন কিংবা আপসের প্রস্তাব—কোনোটিই তাঁকে আন্দোলনের পথ থেকে সরাতে পারেনি। বারবার গ্রেপ্তার, গৃহবন্দিত্ব ও রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও তিনি রাজপথে থাকার সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন। ১৯৯০ সালের গণ-অভ্যুত্থানে এরশাদ পতনের পেছনে এই অনমনীয় নেতৃত্বই তাঁকে ‘আপসহীন’ অভিধা এনে দেয়।
১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও খালেদা জিয়া রাজনৈতিক আপসের পথে হাঁটেননি—এমন দাবি তাঁর সমর্থকদের। রাষ্ট্রপতি শাসনব্যবস্থা থেকে সংসদীয় ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন ছিল একটি বড় সিদ্ধান্ত, যা তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বাস্তবায়ন করেন। ১৯৯৬ সালে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে প্রবল আন্দোলনের মুখে তিনি ক্ষমতা ছাড়তে বাধ্য হলেও, সেটিকে অনেকেই দেখেন গণতান্ত্রিক দাবির প্রতি শেষ পর্যন্ত মাথা নত করার একটি অনিচ্ছাকৃত কিন্তু ঐতিহাসিক অধ্যায় হিসেবে।
২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী সময়ে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ পরিচয় আরও দৃঢ় হয়। জরুরি সরকারের সময় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর চাপ, বিদেশে চলে যাওয়ার প্রস্তাব কিংবা আপসের নানা সমীকরণ—সবকিছুই প্রত্যাখ্যান করেন তিনি। কারাবন্দিত্ব মেনে নিয়েছেন, কিন্তু রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেননি। এই অবস্থান তাঁকে সমর্থক ও বিরোধী—উভয় পক্ষের কাছেই একটি অনমনীয় চরিত্রে পরিণত করে।
২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচন ঘিরে তাঁর অবস্থানও ‘আপসহীন’ অভিধার অন্যতম উৎস। নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি অনড় থাকেন, যদিও সেই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিকভাবে তাঁর দলের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে—এমন মতও রয়েছে। তবু ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার বিনিময়ে অবস্থান বদলাননি—এই যুক্তিতেই তাঁর অনুসারীরা তাঁকে আপসহীন বলে আখ্যায়িত করেন।
তবে ‘আপসহীনতা’ সবসময় ইতিবাচক রাজনীতির সমার্থক—এমন নয়। অনেকের মতে, এই অনমনীয়তা কখনো কখনো রাজনৈতিক সংকট ঘনীভূত করেছে, সংলাপের পথ সংকুচিত করেছে। আবার অন্যদের মতে, আপস না করাই ছিল তাঁর রাজনৈতিক শক্তি ও পরিচয়ের মূল ভিত্তি।
ইতিহাস শেষ পর্যন্ত খালেদা জিয়াকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তা সময়ই নির্ধারণ করবে। তবে এটুকু নিশ্চিতভাবে বলা যায়—বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি এমন এক নেত্রী, যাঁর নামের সঙ্গে ‘আপসহীন’ শব্দটি কেবল স্লোগান নয়, বরং দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলার সারসংক্ষেপ।
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেনকে শুভেচ্ছা ... বিস্তারিত
উপজেলাধীন জঙ্গল সলিমপুরে অস্হায়ী র্যাব ক্যাম্প কে লক্ষ্য স্হানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী এলোপাতারী ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, মানুষকে বলা হয়- ‘আশরাফুল মাখলুকাত’।... বিস্তারিত
বাংলাদেশে উৎসব এলেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়বে—এ যেন দীর্ঘদিনের এক অলিখিত বাস্তবতা। কিন্ত... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন সাম্প্রতিক গ্রাফিতি ইস্যু নিয়ে এক বক্তব্যে দাবি... বিস্তারিত
চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে আগামী ১৯ মে থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী “ভূমিসেবা মেলা-২০২৬”। এ উপলক্ষে ... বিস্তারিত
আন্জুমানে মোত্তবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারীর উদ্যোগে এবং লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং সন্দ্বীপ ও লিও ক... বিস্তারিত
হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অগ্নি নির্বা... বিস্তারিত
‘সৃজনে আনন্দ’—এই প্রত্যয়কে ধারণ করে হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার ব... বিস্তারিত