মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৩০ এএম
বর্ষার অতিবৃষ্টি এবং জোয়ারের প্রবল স্রোতে ধীরে ধীরে ভাঙ্গন ছুয়ে আছে কক্সবাজার উপকূল এলাকা।
বর্ষা ছাড়া অন্যান্য মৌসুমেও অতি জোয়ারের ফলে একই রূপ দেখা যায়। কক্সবাজার উপকূল ভাঙ্গন রোধে প্রকৃতির সহযোগিতা নিয়ে প্রকৃতির এই ভাঙ্গা গড়ার খেলা বন্ধ করা সম্ভব। এমনটি জানিয়েছেন দেশের প্রখ্যাত সামুদ্রিক বিজ্ঞানী, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশে সরকারের সদ্য বিদায়ী সচিব সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দার। তিনি তার ভেরিফাই ফেসবুক আইডিতে লিখেছেন :
সৈকতের বালিয়ারী জুড়ে যে ঝাউবাগান তৈরী করা হয়েছে তা ঘুর্ণিঝড়ের তীব্র বায়ুপ্রবাহ রোধ করার পাশাপাশি সৈকতের সৌন্দর্য বর্ধনে ভূমিকা রাখলেও ভূমি গঠন ও ভাংগনরোধে এই ঝাউবনের কোন ভূমিকা নেই। সামান্য জোয়ারের প্লাবিত হলেই নীচ থেকে বালিমাটি সরে গিয়ে ঝাউগাছ আছড়ে পড়ে। কিন্তু এলাকাভেদে কেয়াবন ও নারিকেলবিথী সৃজন করা গেলে কেয়াবনের ঠেসমূল তীব্র জোয়ারেও টিকে থাকবে এবং কেয়াবনের চারিদিকে বালি সঞ্চিত করে ভাংগনরোধসহ নূতন ভূমি তৈরী করবে। উল্লেখ্য কেয়া,নিশিন্দা,সাগরলতা(ছাগল খুড়ি) সহ অর্ধশত বৃক্ষ লতা গুল্ম রয়েছে যা সৈকতের ভাঙ্গন রোধসহ বালিয়ারি গঠনে মূখ্যভূমিকা রাখে।অনেকে এই সকল বৃক্ষরাজীকে বায়োশিল্ডও বলে থাকেন।
আধুনিক প্রযুক্তিতে সৈকতের ভাঙ্গনরোধের উদ্যোগের পাশাপাশি বালুকাময় সৈকতের প্রাকৃতিক বৃক্ষ-লতা-গুল্ম নিয়ে বায়োশিল্ড তৈরি করা না গেলে বালিয়ারি গঠন হবেনা, হলেও টেকসই হবেনা এবং সৈকতের ভাঙ্গন দিন দিন তীব্র থেকে তীব্রতর হবে। এই বায়োশিল্ডের পাশাপাশি নির্দিষ্ট স্থানে ঝাউবনেও থাকতে পারে। কিন্তু বর্তমানে শুধুমাত্র ঝাউগাছ দিয়ে সৈকতে বনায়ন চলমান। একটি মাত্র প্রজাতির বৃক্ষ ছাড়া অন্যকোন প্রজাতির গাছ এখানে নাই। অথচ এই ঝাউগাছটি একটি বিদেশি বৃক্ষ অন্যদিকে কেয়া নিশিন্দা আমাদের সৈকতের নিজস্ব উদ্ভিদ যা বিলুপ্ত হয়ে গেছে বললেই চলে।
সামুদ্রিক বিজ্ঞানী বেলাল হায়দার আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্তাব্যক্তিরাও বিষয়টি জানেন কিন্তু কী এক অদৃশ্য কারনে তারা বাছবিচারহীনভাবে ঝাউগাছ লাগাতেই আগ্রহী। নতুন কোন বালিয়ারি সৃষ্টি হলে সেটি সুগঠিত হওয়ার আগেই ঝাউয়ের চারা লাগিয়ে দেয়া হয় অথচ নবসৃষ্ট বালিয়ারি সুগঠিত হওয়ার জন্য প্রথমেই সাগর লতার বিস্তার যাতে হয় সে বন্দোবস্ত করতে হয় এরপর বালি সঞ্চয় করে বালিয়ারির প্ররিবৃদ্ধি করার জন্য বনতুলশি, শ্বেতদ্রোন,নিশিন্দা,ফনিমনসা জাতীয় প্রায় শতাধিক প্রজাতির গুল্মের আবরন তৈরী হয় এবং ক্রমান্বয়ে বালি সঞ্চিত হয় এবং সাধারন জোয়ার ভাটায় বালিয়ারীর কোন ক্ষতি হয়না। বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর আবাস প্রজনন ও বিচরন স্থলে পরিনত হয় বালিয়ারী এরপর একদম উপকূলের কাছাকাছি বালিতে কেয়া নিশিন্দা বন তৈরী করে একটি টেকসই বায়োশিল্ড গড়ে তোলা সম্ভব।এতে সৈকতের ভাঙ্গন প্রতিরোধের পাশাপাশি বালিয়ারির হারিয়ে যাওয়া প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি আরো বলেন, ঝাউবনের কোন ঔষধি গুন আছে কিনা আমার জানা নেই।তবে আমি দেখেছি ঝাউবনে কোন পাখি বসেনা, কোন পাখির বাসা নেই। এই বনে কোন পশুও বিচরন বা ছায়ায় আশ্রয় নেয়না। ঝাউগাছের নীচে কোন ঘাস লতা পাতা জন্মায়না।কাছিম ডিম পাড়তে আসেনা।
অথচ বালিয়ারি গঠনে প্রাকৃতিকভাবে জন্মনেয়া যে সকল লতা গুল্ম ও উদ্ভিদের ভূমিকা রয়েছে - তাদের প্রত্যেকেরই নানাবিধ ঔষধি গুনাগুন রয়েছে।
যেমন , নিশিন্দার ফুল-ফল-পাতা-কান্ড-মূল প্রত্যকটি অংগ- প্রত্যঙ্গ ঔষধি গুনাগুন সম্পন্ন। সোনাদিয়ায় আমি দেখেছি সৈকত হতে নিশিন্দার পাতা ও ফল শুকিয়ে ব্যাপারীদের কাছে বিক্রি করে কোন কোন পরিবার স্বাবলম্বী।
ভবিষ্যতের রেফারেন্সের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,আমি BORI -তে থাকার সময় সোনাদিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বালিয়ারী সৃষ্টিকারী প্রায় সহস্রাধিক লতা-গুল্মের হার্বেরিয়াম সীট করেছিলাম। বিলুপ্তপ্রায় এসকল উদ্ভিদ আমাদের স্থানীয় অথচ অবহেলিত।
কক্সবাজার উপকূল ভাঙ্গন রোধে সামুদ্রিক বিজ্ঞানী সাঈদ মাহমুদ বেলাল হায়দর এর গঠনমূলক এই মতামত কে, উচ্চতর গবেষণা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজে লাগিয়ে কক্সবাজার সহ অন্যান্য সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চল ভাঙ্গন রোধ করতে পারেন।এমনটি অভিজ্ঞ মহলের বিশ্বাস।
আন্জুমানে মোত্তবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারীর উদ্যোগে এবং লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং সন্দ্বীপ ও লিও ক... বিস্তারিত
হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অগ্নি নির্বা... বিস্তারিত
‘সৃজনে আনন্দ’—এই প্রত্যয়কে ধারণ করে হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার ব... বিস্তারিত
সামাজিক সংগঠন প্রয়াস এর উদ্যোগে ২১ আগষ্ট শুক্রবার বিকালে নগরের বেলভিউ হসপিটাল লি: প্রাঙ্গনে সমাজ... বিস্তারিত
সীতাকুণ্ডে ইত্তেহাদ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল ... বিস্তারিত
আন্জুমানে মোত্তবেয়ীনে গাউছে মাইজভাণ্ডারীর উদ্যোগে এবং লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং সন্দ্বীপ ও লিও ক... বিস্তারিত
হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অগ্নি নির্বা... বিস্তারিত
‘সৃজনে আনন্দ’—এই প্রত্যয়কে ধারণ করে হালিশহর ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে অনুষ্ঠিত ... বিস্তারিত
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবরেটরি স্কুল এন্ড কলেজের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার ব... বিস্তারিত